Tips

ভূমিকম্পের পর ফাটলযুক্ত ভবন: নিরাপদ থাকার উপায় এবং করণীয়

ভূমিকা

বাংলাদেশের মতো ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে যেকোনো সময় মৃদু বা তীব্র কম্পন অনুভূত হতে পারে। সম্প্রতি (২১ নভেম্বর ২০২৫) ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছিল, যাতে অনেক বাড়ির দেয়ালে ফাটল দেখা গিয়েছিল। এটি আলোকপাত করে যে ভূমিকম্পের পর ফাটল হয়ে গেলে যথাযথ প্রস্তুতি ও সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। এক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূমিকম্পে বাড়িতে ফাটল দেখা দেওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ থাকে: পুরোনো বা অব্যবহৃত কাঠামো, নিম্নমানের নির্মাণ উপাদান, দুর্বল ভিত্তি এবং ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছে কম্পনের তীব্রতা ইত্যাদি। এই ব্লগে ভূমিকম্পের পর ফাটল চেনার পদ্ধতি, জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, বিশেষজ্ঞ পরামর্শের সময়, স্ট্রাকচারাল মূল্যায়ন ও মেরামতের ধাপসহ ভবিষ্যতের প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।

ফাটলের ধরন ও চেনার উপায়

উপরের ছবিতে একটি ভবনের দেয়ালে ভূমিকম্পজনিত বড় ফাটল দেখা যাচ্ছে, যা বড় ধরনের কাঠামোগত দুর্বলতা নির্দেশ করে। ভূমিকম্পে সৃষ্ট ফাটল প্রধানত দুই ধরনের হতে পারে। সেগুলো হলো:
হেয়ারলাইন ক্র্যাক: এগুলো সাধারণত দেয়ালের প্লাস্টার বা পেইন্টের স্তরে সূক্ষ্ম চুলের মতো ফাটল হিসেবে দেখা দেয়। এই ধরনের ফাটল সাধারণত সরাসরি বিল্ডিংয়ের গঠনগত দিক থেকে বড় ক্ষতি করে না, তবে এগুলো ক্রমশ বড় হতে পারে। তাই সময়ে সময়ে এগুলো পর্যবেক্ষণ করে ছোট ফাটলগুলো দ্রুত মেরামত করতে হয়।
স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক: এই ধরনের ফাটল কলাম, বিম, ছাদ বা ভিত্তিসহ মূল কাঠামোর মধ্য দিয়ে গিয়ে থাকে। কাঠামোগত ফাটল বিপজ্জনক কারণ এগুলো ভবনের স্থিতিশীলতাকে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত করে। যদি দেয়ালে বা স্তম্ভে দীর্ঘ এবং গভীর ফাটল লক্ষ্য করেন, সেগুলোকে অবশ্যই বড় ফাটল বলে বিবেচনা করতে হবে।

দেখা গেছে ক্ষুদ্র ফাটলগুলো হাতের স্পর্শে সাধারণত ধরা যায় না, কিন্তু পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট দেখার চেষ্টা করতে হবে। পাশাপাশি, দেয়ালের কোণ বা পিলারের সংযোগস্থলে চারপাশের ফাটলগুলোও বিশেষভাবে খেয়াল করতে হবে। কোন ফাটল খারাপ হবে না মনে করে ছোট ফাটল ইগনোর করা ঠিক নয়কারণ, সময়ের সাথে সেগুলো বড় ফাটলে পরিণত হতে পারে।

ভূমিকম্প পরবর্তী জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা

ভূমিকম্পের পর দুর্ঘটনা এবং আঘাত এড়াতে নিম্নলিখিত জরুরি পদক্ষেপগুলো নেওয়া প্রয়োজন:

  • আতঙ্ক নিয়ন্ত্রণ: প্রথমেই আতঙ্কিত না হয়ে ঠাণ্ডা মাথায় পরিস্থিতি সামাল দিন। হার্ট পাম্পিং শ্বাস-প্রশ্বাস দূর করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিন।
  • বাড়ি খালি করে নিরাপদে বেরিয়ে আসা: যদি বড় ধরনের ফাটল দেখতে পান বা ভবনের বাঁকা হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে, দ্রুত বাসা থেকে বেরিয়ে এসে নিরাপদ স্থানে (মাঠ, পার্ক, খোলামেলা স্থানে) আশ্রয় নিন।
  • গ্যাস এবং বিদ্যুৎ লাইন পরীক্ষা: গ্যাস সিলিন্ডার ও লাইন থেকে গ্যাস লিকেজ না হচ্ছে কিনা দেখুন। বিদ্যুৎ সুইচ অফ করে রাখুন। পানির পাইপে ফাটল আছে কিনা তাও চেক করে দেখুন। এইসব ব্যবস্থা মেনে চললে আগুন মতো দৈব বিপদ এড়ানো যায়।
  • দূরের বস্তুর থেকে দূরে থাকা: দেয়াল, জানালা, ভারী আসবাবপত্রের নিচে দাঁড়ানো থেকে বিরত থাকুন। ভূমিকম্পের পরে আছড়ে পড়ার ঝুঁকি থাকে। মাথায় হেলমেট বা এমন কোন পাত্র ব্যবহার করুন উপরের প্লাস্টার বা দেয়ালের অবশিষ্টাংশ পড়লেও ক্ষতি না হয়।
  • স্থানীয় জরুরি সেবা জানানো: যদি ব্যাপক ক্ষতি হয় অথবা কোনো মানুষ ধাক্কা খেয়ে আহত হয়ে থাকে, সাথে সাথে ফায়ার সার্ভিস বা সিভিল ডিফেন্সে ফোন করে জানান। গুরুতর দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজউকের জরুরি হটলাইনেও খবর দিতে পারেন।

এই সকল নিরাপত্তা উপায় ঠিকমতো পালন করলে, ভূমিকম্পের পর হতাহতের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।

কখন বিশেষজ্ঞ পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন

ভূমিকম্পের পর ফাটল দেখলে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। নিম্নলিখিত পরিস্থিতিতে দ্রুত পেশাদারের সাহায্য নিন:

  • ফাটল গভীর বা স্ট্রাকচারাল হলে: দেয়ালের পিলার, কলাম, বিম, ছাদ বা ভিত্তিতে বড় ফাটল দেখা দিলে অবিলম্বে স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার-এর সহায়তা নিন। তারা ফাটলের ধরন পরীক্ষা করে ভবনের স্থিতিশীলতার অবশিষ্টতা নির্ণয় করে মেরামতের সুপারিশ দেবেন।
  • মূল ডিজাইনারের সাহায্য না পেলে: যদি সেই ভবন নির্মাণের স্থপতি বা ডিজাইনারের সাথে যোগাযোগ না থাকে, তবে নির্মাণের নকশাপত্র ও প্ল্যান নিয়ে নিকটস্থ সিভিল ইঞ্জিনিয়ার (স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার হলে ভাল)। তারা ছবি-নকশার ভিত্তিতে ফাটলের কারণ ও মেরামতের উপায় পরামর্শ দিতে পারে।
  • যে কোনো সন্দেহ থাকলে: কোনো ফাটলের গুরুত্ব বোঝার ক্ষেত্রে কোনো দ্বিধা বা সংশয় থাকলে দেরি না করে সিভিল/ স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারদের সাথে পরামর্শ করুন। ফাটলের আকার ছোট মনে হলেও ভিতরে বড় আকারের ফাটল লুকিয়ে থাকতে পারে, কেন না ঢালইসহ ফাটল বাইরে থেকে ছোট দেখালেও ভেতরে বড় বিচ্যুতি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞের পরামর্শ না নিলে ক্ষুদ্র সমস্যা বড় বিপদে রূপ নিতে পারে, তাই সতর্ক থাকা চাই।

স্ট্রাকচারাল এসেসমেন্টে কী কী দেখা হয়

ফাটল পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য স্ট্রাকচারাল এসেসমেন্ট করা হয়। এতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো দেখা হয়:

  • স্ট্রাকচারাল উপাদান পরিদর্শন: ভবনের প্রতিটি মূল উপাদান যেমন দেয়াল, কলাম, বিম এবং ভিত্তি পর্যালোচনা করা হয়। কোথায় ফাটল হয়েছে, তা চেক করা হয়।
  • ফাটলের ধরন ও বিস্তার নির্ণয়: ফাটলটির দৈর্ঘ্য, প্রস্থ এবং গভীরতা পরিমাপ করা হয়, এবং ফাটলের শুরু ও শেষ বিন্দু চিহ্নিত করা হয়।
  • উপকরণের অবস্থা গুণগত মান: ইট, সিমেন্ট, রড ইত্যাদির দুর্বলতা দেখার জন্য ভবনের সুনির্দিষ্ট পরীক্ষা করার প্রয়োজন হতে পারে। পরীক্ষার রেজাল্টের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা লাগবে।
  • ভূমি ও ভিত্তির পরীক্ষা: ফাউন্ডেশনের দিক থেকেও ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়। মাটির স্হিতিস্থাপকতা, নিকটবর্তী নদী বা স্ট্রাকচারের প্রভাবে সম্ভাব্য হেলানোর মূল্যায়ন করা হয়।
  • শক্তি পরীক্ষণ: মেরামত শুরুর আগে ভবনের অবশিষ্ট শক্তি এবং স্থিতিশীলতা যাচাই করতে বিভিন্ন পরীক্ষামূলক পরীক্ষা চালানো হয়। এতে ভবন যদি অতিরিক্ত চাপ সহ্য করতে না পারে, তাহলে তা খণ্ড খণ্ড করে পুনঃনির্মাণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। 
    উৎস

এসব পরিমাপ ও পরীক্ষা করে প্রকৌশলীরা ভবনের নিরাপত্তা মূল্যায়ন রিপোর্ট তৈরি করেন। এর ভিত্তিতে পরবর্তী মেরামত পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়।

ফাটল মেরামতের ধাপ ও প্রযুক্তি

মেরামতের কাজ শুরু করার আগে যথাযথ পরিকল্পনা করা জরুরি। সাধারণভাবে মেরামতকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়: নন-স্ট্রাকচারাল (রং, দেয়ালের প্লাস্টার, দরজা-জানালা ইত্যাদি) এবং স্ট্রাকচারাল (মূল কাঠামোগত উপাদান) মেরামত। কাজের ধাপগুলো হলো:

  • পুরোনো উপাদান অপসারণ ও পরিমাপ: প্রথমে ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলি সরিয়ে ফেলতে হবে। বড় ফাটল রয়েছে এমন দেয়াল বা পিলার থেকে পুরোনো সিমেন্ট ও ইট ফেলে দিয়ে দেয়া হয়। এরপর নতুন মিশ্রণের সাহায্যে তার প্রতিস্থাপন করতে হয়।
  • ঈপোক্সি ও সিমেন্ট জ্যাকেটিং: ফাটল হওয়া দেয়ালের দুই পাশে রিইনফোর্সড মেশ (ঝালাই কর্ড অথবা জাল) বসানো হয় এবং ইট-পাথরের ঢালাই করে উচ্চ-দ্রবণীয় সিমেন্ট বা মাইক্রোকংক্রিট মেখে নেয়া হয়। ফাটলগুলোর মধ্যে ইপোক্সি গ্রাউট বা বিশেষ দ্রাবক ঢেলে ভরাট করা হয়। এভাবে দেয়াল ও বীমে নতুন শক্তিশালী স্তর তৈরি হয়।
  • নতুন শক্তি সংযোজন: কাঠামোর ভূমিকম্প প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অতিরিক্ত কলাম বা দেয়াল যুক্ত করা যেতে পারে। বিশেষ প্রয়োজনে রেকটোফিটিংয়ের কাজ প্রয়োজন হতে পারে। এছাড়া ফাটল দেখা যায় এমন অংশে হালকা ইস্পাত বা ফাইবার-রিইনফোর্সমেন্ট ব্যবহার করে শক্তিশালী করা হয়। কঠিন দোল এড়াতে ব্রেসিং (ত্রিভুজাকার স্টিল ফ্রেম) সংযোজনের মত পদ্ধতিও নেওয়া যায়।
  • কসমেটিক মেরামত: কাঠামোগত মেরামত শেষ হলে দেয়ালগুলোকে মসৃণ করতে প্লাস্টার বা পেইন্ট করা হয়। ছোট ফাটলের ক্ষেত্রে সাধারণ প্লাস্টার মেরামত যথেষ্ট। তবে বড় ফাটল হলে উন্নত প্রযুক্তি যেমন স্টিল জ্যাকেটিং, ফ্রেম স্ট্রেংথেনিং বা ইপোক্সি ইনজেকশন ব্যবহার করতে হয়। স্টিল জ্যাকেটিং-এ ক্ষতিগ্রস্ত কলামকে ঢেকে দেয়ালের চারপাশে ইস্পাতের শীট বাধা দেয়ার মাধ্যমে শক্তি বৃদ্ধি করা হয়।

এই ধাপগুলো অনুসরণ করে কাঠামোর শক্তি পুনঃস্থাপন করার পর ভবনকে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করে তোলা হয়। পরে ভবনকে বৈধ ও সুরক্ষিত করে তুলতে ফিনিশিং কাজগুলো (প্লাস্টার, আসবাবপত্র স্থাপন ইত্যাদি) সম্পন্ন করা হয়।

ভবিষ্যতের জন্য করণীয়

ভবিষ্যতে ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে নিচের বিষয়গুলো মেনে চলতে হবে:

  • বিল্ডিং কোড মেনে চলাঃ নির্মাণের সময় বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (BNBC) অনুযায়ী ভূমিকম্প-প্রতিরোধী নকশা নিশ্চিত করতে হবে। নকশা, সামগ্রী ও কাজের গুণগত মানকে BNBC-এর নির্দেশনা অনুযায়ী রাখতে হবে।
  • পুরোনো ভবন শক্তিশালীকরণঃ পুরোনো ও দুর্বল ভবনগুলোকে পুনর্গঠন বা রেট্রোফিটিং করতে হবে। যা আগে থেকে দুর্বল সেপ্টমেন্ট, মাটি সমস্যা বা ডিজাইনের ত্রুটি সংশোধন করে ভবনকে টেকসই করে।
  • উপকরণ ও নির্মাণের মান নিয়ন্ত্রণঃ বাড়ি নির্মাণের সময় উচ্চমানের সিমেন্ট, ইস্পাত এবং বালু ব্যবহার করুন। নির্মাণের সময় সঠিক অনুপাত ও পদ্ধতি মেনে চললে ভবন পরবর্তী কম্পনে ঝাঁকুনি গ্রহণ ক্ষমতা বাড়ে।
  • জমি ও পরিবেশ বিবেচনাঃ ঝুঁকিপূর্ণ ভূখণ্ড (বাঁশঝাড়, জল-তলা, দুর্গম অঞ্চলে) এ বাড়ি তৈরি এড়িয়ে চলুন। কঠিন ভিত্তি নিশ্চিত করা ও প্রচুর দোল প্রবণ এলাকা এড়িয়ে সচেতন নির্মাণ করা উচিত।
  • সচেতনতা ও মহড়াঃ নিয়মিতভাবে ভূমিকম্পের প্রস্তুতি ও নিরাপদ আচরণ নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে হবে। পরিবারের সবাইকে যেখানে নিরাপদে আশ্রয় নিতে হবে সেই বিষয়ে জানান, এবং জরুরি পরিস্থিতিতে যোগাযোগ পদ্ধতি ঠিক রাখতে অভ্যস্ত হতে হবে।

এসব করণীয় মেনে চলার ফলে ভবিষ্যতে কোনো ভূমিকম্পের ক্ষেত্রে ক্ষতি ও হতাহতের সম্ভাবনা অনেকাংশে কমে যাবে।

Softland Construction-এর ভূমিকম্প প্রতিরোধী বিল্ডিং নীতি

Softland Construction সব প্রকল্পেই আধুনিক ভূমিকম্প-সুরক্ষা নীতি মেনে চলে। Softland বাংলাদেশের নির্মাণ বিধিমালা (BNBC) অনুযায়ী নিরাপদ নকশা নিশ্চিত করে। কোম্পানির অভ্যন্তরীণ মানদণ্ড অনুসারে উচ্চমানের ইট, বালু, সিমেন্ট, ইস্পাত ও নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়, যাতে ভবনগুলি লম্বা সময় স্থিতিশীল থাকে। Softland সবসময় অভিজ্ঞ স্থাপত্য ও ইঞ্জিনিয়ারিং টিমের মাধ্যমে কাঠামোগত নকশা ও পরিদর্শন করে, যাতে ভবনের ডিজাইনে কোনো খুঁত না থাকে। এছাড়া নির্মাণকাজ চলাকালীন নিয়মিত গুণগত পরীক্ষণ ও ত্রুটি সংশোধন নিশ্চিত করা হয়। এই সব প্রস্তুতি ও নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে Softland নির্মিত ভবনগুলো ভূমিকম্প প্রতিরোধী হিসেবে খ্যাত।

উপসংহার ও পাঠকের জন্য উপদেশ

ভূমিকম্পের পর ফাটল দেখা দিলে তৎপরতা ও পরিকল্পনা জরুরি। ফাটলের প্রকৃতি চিহ্নিত করে কম ঝুঁকির ক্ষেত্রে সাধারণ মেরামত করতে হবে এবং গম্ভীর ফাটলে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞের সাহায্য নিতে হবে। আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরে অবস্থা মূল্যায়ন করুন এবং নিরাপদ স্থান নিশ্চিত করুন। ভবিষ্যতে অনিবার্য বিপদের জন্য সবসময় প্রস্তুত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।

পাঠকদের জন্য কিছু পরামর্শঃ
– বাড়ির ফাটল নিয়মিত খেয়াল করুন, বিশেষ করে ভূমিকম্পের পর‌। ক্ষুদ্র ফাটলেও নজর দিন।
– ভবনবাড়ির সব নকশা-প্রকৌশলাদি পেশাদার দ্বারা করা হয়েছে কি না নিশ্চিত হন। অবৈধ ও নিম্নমানের নির্মাণ এড়িয়ে চলুন।
– জরুরি সরঞ্জাম (প্রথম-এইডদ বাক্স, বাতি, পানির বোতল, ব্যাটারি ইত্যাদি) সবসময় প্রস্তুত রাখুন।
– পরিবারের সবার সাথে ভূমিকম্পের সময় নেভিগেশন পরিকল্পনা এবং জরুরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করুন।
– ভবিষ্যতে এই ধরনের দুর্যোগ এলে দ্রুত সরকারি নির্দেশনা ও সতর্কতা অনুযায়ী কাজ করুন।

উপরোক্ত সকল সতর্কতা ও পদক্ষেপ মেনে চললে আপদকালীন পরিস্থিতি অনেকাংশে নিরাপদে সামলানো সম্ভব। সর্বোপরি, ফাটল দেখা দিলে সময়মতো ব্যবস্থা নিয়ে ভবনকে নিরাপদ করে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *